দেশসেরা ই-কমার্স ‘চালডাল’

দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল ডট কম পেলো দেশসেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি। গত ১১ ডিসেম্বর ডিজিটাল ওয়োল্ডের সমাপনী অনুষ্ঠান এ পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক চালডাল লিমিডেট এর দুই প্রতিষ্ঠাতা ওয়াসিম আলিম ও জিয়া আশরাফের হাতে পুরষ্কারের ট্রফি তুলে দেন।

মূলত চলতি বছর করোনাকালীন সময়ে গৃহে থাকা মানুষকে ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্বারা নিত্যপণ্য সেবা দেয়া এবং অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা তথা দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে মান অক্ষুন্ন ক্রমশ সেবা বিস্তৃতি করার স্বীকৃতিস্বরুপ এই পুরষ্কার দেয়া হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে পদত্ত বক্তব্যে করোনাকালীন সময়ে মানুষের ঘরে ঘরে নিত্য পণ্য সফলভাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য চালডাল লিমিডেট ও এর কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। সেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পুরষ্কার জেতায় তিনি চালডালকে অভিনন্দন জানান।

এছাড়া চালডাল লিমিটেড এর সকল কর্মীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার ও জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ সেবার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। করণাকালীন সময় চালডাল প্রায় ৪০০,০০০ ডেলিভারীর মাধ্যমে ২ লক্ষ পরিবারকে পৌঁছানোর মাধ্যমে এক নতুন মাইল ফলক রচনা করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬০০ জন কর্মী কাজ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনলাইনে সাশ্রয়ীমুল্যে পেয়াজ বিক্রি, প্রান্তিক চাষীর বাগান থেকে সংগ্রহ করা আম অনলাইনে বিক্রি কার্যক্রমে অংশ নেয়। ঢাকা শহর জুড়ে ১৬ ওয়ারহাউজ থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার অর্ডার সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রতিমাসে ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবার তাদের নিত্যপণ্যের জন্য চালডালের উপর ভরসা করছে। দিনদিন বাড়ছে এই সংখ্যা। করোনাকালীন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে এই বছর নিজেদের প্রবৃদ্ধিকে ১০০%এ উন্নীত করেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে চালডাল এর ফাউন্ডার ও সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, আমরা প্রতিটি মুহুর্তে পন্যের মান, দাম ও ডেলিভারীর সময়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল সঠিক পণ্য সঠিক দামে সঠিক সময়ে গ্রাহকের কাছে পেঁৗছে দিলে ক্রেতারা আমাদের নিরাশ করবেনা। আমরা আমাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। সর্বশেষ এই পুরষ্কার আমাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিল।

চালডাল এর আরেক ফাউন্ডার ও সিওও  জিয়া আশরাফ বলেন, আসলে এই অর্জন চালডালের একার নয়, এই অর্জন চালডালের সমস্ত কর্মী ও গ্রাহকদের। একদিকে কর্মীরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে গেছেন অন্যদিকে ক্রেতারা আমাদের উপর ক্রমাগত আস্থা রেখেছেন। এই পুরষ্কার সকল দেশীয় উদ্যোক্তার প্রাপ্তি, গোটা ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির জন্যই এটা একটা অর্জন। বিশেষ করে ই-ক্যাবকে আমি এ ব্যাপারে ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তারা আমাদেরকে সবসময় সহযোগিতা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরকে আমরা পাশে পেয়েছি। তা না হলে নিরবিচ্ছন্ন সেবা দেয়া কঠিন হয়ে যেত।

ভবিষ্যতে সেবার মান ও সেবার পরিধি বাড়িয়ে দেশীয় ই-কমার্সখাতকে শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তারা